Home Videos Photos News & media Blogs Contact    
News and Articals

প্রেস ক্লাবে মায়ার নেতৃত্বে দফায় দফায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলা, আহত ৪০, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার দাবি, আজ প্রতিবাদ সমাবেশ

Edit Date:12/29/2013 12:00:00 AM

 
পরের সংবাদ»
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে দফায় দফায় নারকীয় হামলা চালিয়েছে সরকারদলীয় ক্যাডাররা। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ক্রিকেট স্ট্যাম্প, লাঠিসোটা, রড ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আওয়ামী লীগের মহানগর সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নেতৃত্বে এ বর্বর হামলা চালানো হয়। এ সময় সাংবাদিকদের ওপর বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলাকারীরা। এতে অন্তত ৪০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। 
বন্ধ মিডিয়া খুলে দেয়ার দাবিতে সাংবাদিকদের পূর্বঘোষিত এ মহাসমাবেশ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক পুলিশের সামনেই নজিরবিহীন ঘৃণ্য এ হামলার ঘটনা ঘটে। 
এদিকে প্রেস ক্লাবের মতো অরাজনৈতিক একটি প্রতিষ্ঠানে সরকারদলীয় ক্যাডারদের ন্যক্কারজনক ও বর্বরোচিত এ হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। অন্যথায় আজকের (সোমবারের) ঘোষিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়ারও হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
যেভাবে হামলা হয় সাংবাদিকদের ওপর
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবিতে’ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে সাংবাদিকদের সমাবেশ কর্মসূচি ছিল। পূর্বঘোষিত সমাবেশ কর্মসূচি সফল করতে সাংবাদিকরা সকাল থেকেই প্রেস ক্লাব চত্বরে উপস্থিত হতে থাকেন। তবে ভোর থেকেই প্রেস ক্লাবের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। তারা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেন ও অনেককেই বাধা দেন।
বেলা ১১টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর পৌনে ১২টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় সাংবাদিকদের সমাবেশ। সমাবেশ শুরুর মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়ে পুলিশ প্রটেকশনে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী মার্চ ফর ডেমোক্রেসি বিরোধী একটি লাঠি মিছিল বের হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেকের হাতে জাতীয় পতাকা, ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প, লাঠিসোটা ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। এক পর্যায়ে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই বহিরাগত ওই সরকারদলীয় ক্যাডাররা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তা থেকে সমাবেশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় বেশকিছু আওয়ামী ক্যাডার প্রেস ক্লাবের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে মাইক ভাংচুর করে। হামলাকারীরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ও ক্যামেরাম্যানদেরও আক্রমণ করে। দীর্ঘ সময় ধরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করার সময় পুলিশের একটি অংশ প্রেস ক্লাবের মেইন গেট খুলে দিয়ে ভেতরে গিয়ে হামলায় সহযোগিতা করে। ভেতরে আওয়ামী ক্যাডাররা মাইক, ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে। এ সময় তারা লাঠিসোটা নিয়ে প্রেস ক্লাবের ভেতরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে জাস্ট নিউজের চিফ রিপোর্টার এম এ সাঈদ, শীর্ষ নিউজের আজিজুর রহমান, দৈনিক আমার দেশ-এর স্টাফ রিপোর্টার মাহাবুবুর রহমান, মাহমুদা ডলি, ইসলামিক টেলিভিশনের মফিজুল হক বাবু, সাংবাদিক রবিউল ইসলামসহ অন্তত ৪০ জন সাংবাদিক আহত হন। প্রেস ক্লাবের সামনে আওয়ামী ক্যাডারদের হামলায় আহত হন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী শাহ মোজাম্মেল নান্টু। 
সাংবাদিকদের এ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব শওকত মাহমুদ, ডিইউজে সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএফইউজের সহ-সভাপতি নুরুল আমিন রোকন ও আমিরুল ইসলাম কাগজী, বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সাবেক সভাপতি এম এ আজিজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।
সাংবাদিকদের সমাবেশে হামলার সময় পাশেই উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, শীর্ষ সন্ত্রাসী হান্নানসহ আরও অনেকে। হামলাকারীরা সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর নাম ধরে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বলতে থাকে, ‘এই রুহুল আমিন গাজী বেরিয়ে আয়, আজ তোর দিন শেষ। তোকে খতম করে দিবো।’
ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সম্পূর্ণ নির্বিকার দেখা গেছে। এ সময় পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে বার বার অনুরোধ জানিয়েও কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। 
প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা ওই হামলার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে সাংবাদিক নেতারা পুনরায় সমাবেশ শুরু করার চেষ্টা করে। এ সময় দ্বিতীয় দফায় সরকারদলীয় ক্যাডাররা হামলা চালায়। এ হামলার সময় বিএফইউজের একাংশের সাবেক নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী তার কিছু সাঙ্গপাঙ্গ সাংবাদিক ও বহিরাগতকে নিয়ে প্রেস ক্লাবের ভেতরে প্রবেশ করে জয় বাংলা স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় অন্যপক্ষের সাংবাদিকরা ‘মিডিয়ার দালালেরা হুশিয়ার-সাবধান, সাগর-রুনির রক্ত বৃথা যেতে দেব না, ভারতের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান, আওয়ামী লীগের দালালেরা হুশিয়ার-সাবধান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।
সেখানে সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশে ইকবাল সোবহান চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, প্রেস ক্লাব সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। কেউ রাজনৈতিক কাজে প্রেস ক্লাব ব্যবহার করতে চাইলে এ ধরনের হামলা হতে পারে। 
সরকারদলীয় ক্যাডারদের দ্বিতীয় দফা হামলার পর তাত্ক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবিতে পূর্বঘোষিত সমাবেশ করছিলাম। কিন্তু সরকারদলীয় ক্যাডাররা অতর্কিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। বাংলাদেশ এমনকি বিশ্বের ইতিহাসে এ হামলাকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের ওপর আঘাত। দেশে যে গণতন্ত্র নেই, প্রেস ক্লাবে হামলাই তার প্রমাণ। ইকবাল সোবহান চৌধুরীর দেয়া বক্তব্য সঠিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, তিনি সাগর-রুনির রক্তের সাথে বেইমানি করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা হয়েছেন। তিনি এখন সাংবাদিক নন, সরকারের কর্মকর্তা। প্রেস ক্লাবে তিনিই বহিরাগত এবং এ হামলায় তিনিই উসকানি দিয়েছেন। 
এদিকে সাংবাদিকদের সমাবেশে হামলার আগে সকাল থেকেই পুলিশের রমনা জোনের এসি শিবলী নোমানের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেন। এ সময় সেখান থেকে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আরিফা জেসমিন ও সাহারা চৌধুরীসহ ১৭ জনকে আটক করা হয়। কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীনকে হেনস্তা করে পুলিশ সদস্যরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রেস ক্লাবে প্রবেশের সময় কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা দুর্ব্যবহার করলে তার প্রতিবাদ জানায় সাংবাদিকরা। এ সময় পুলিশের রমনা জোনের এসি শিবলী নোমান সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, সাংবাদিকরা জাতীয় চোর। এখানে যারা আসে তারা সবাই চোর। এ সময় সাংবাদিক তার ওই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং তাকে প্রেস ক্লাব থেকে সরিয়ে নেয়ার দাবি জানান। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবি
প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের পূর্বঘোষিত সমাবেশ কর্মসূচিতে ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ জানাতে বিকাল ৫টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করেন জাতীয় প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সমাবেশে হামলাকারীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করা না হলে অন্যথায় আজকের (সোমবারের) ঘোষিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়ারও হুশিয়ারি দেন তিনি। এ হামলা জাতির জন্য লজ্জাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিকদের ওপর এরকম পৈশাচিক হামলা হয়েছে। এতে আমাদের ৪০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। বিশ্বের কাছে আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।
সাংবাদিকদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্যকারী পুলিশ কর্মকর্তা শিবলী নোমানের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে রুহুল আমিন গাজী বলেন, নোমান সাংবাদিকদের বড় চোর বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাকে অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, সোমবার (আজ) সকাল ১১টার মধ্যে যদি হামলাকারীদের গ্রেফতার ও শিবলী নোমানকে প্রত্যাহার করা না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। 
‘সাংবাদিকরা রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নেয়ার জন্য প্রেস ক্লাবে জড়ো হয়েছিলেন’—ইকবাল সোবহান চৌধুরীর এমন বক্তব্যের জবাবে তার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচি ঘোষণার প্রায় মাসখানেক আগেই সাংবাদিকরা বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া, সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রেস ক্লাবে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সাংবাদিকদের এ সমাবেশের সঙ্গে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসির’ কোনো সম্পর্ক নেই বলেও তিনি জানান। উল্টো ইকবাল সোবহানের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, তিনি নিজেই বহিরাগত। তিনি এখন আর সাংবাদিক নন, সরকারি কর্মকর্তা। তিনি বহিরাগতদের নিয়ে প্রেস ক্লাবের মধ্যে মিছিল করেছেন এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলায় উসকানি দিয়েছেন। 
পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে রুহুল আমিন গাজী বলেন, চার দফায় হামলা হলেও পুলিশ কর্মকর্তারা নির্বিকার ছিলেন। তারা সাংবাদিকদের কোনো সহযোগিতা করেন নি। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগ মিছিল করলে বাধা দেয়া হয় না। আর আমাদের বের হতে দেয়া হয় না। এটা কোন গণতন্ত্র? একটি গণতান্ত্রিক দেশ এভাবে চলতে পারে না। তিনি বলেন, এখনও সসয় আছে, গণমাধ্যম খুলে দিন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএফইউজে মহাসচিব শওকত মাহমুদ বলেন, এ সরকার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, তারা গণমাধ্যম বিরোধী। তারা একের পর এক গণমাধ্যম বন্ধ করেছে। সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কারারুদ্ধ করে রেখেছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাতে সমাবেশ করছিলাম। সেখানে ইতিহাসের ন্যক্কারজনক এ হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের এ কর্মসূচি যদি অপরাধ হয় তাহলে সে অপরাধ আমরা হাজার বার করবো। এ সময় ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, তিনি নিজেই বহিরাগত একজন সরকারি কর্মকর্তা।
ডিইউজে সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, সাংবাদিকদের ওপর ন্যক্কারজনক এ হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা মায়া, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, কুখ্যাত সন্ত্রাসী হান্নানসহ আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা।
জাতীয় প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রতিবাদ
এদিকে প্রেস ক্লাবের মতো জাতীয় একটি প্রতিষ্ঠানে সরকার দলীয়দের ওই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ এ হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। প্রত্যেকেই এখানে স্বাধীনভাবে যার যার মত প্রকাশ করেন। সেই ঐতিহ্য বহু বছর ধরে চলছে। তারা বলেন, প্রেস ক্লাবে এ ধরনের ন্যক্কারজনক বহিরাগত হামলার নজির নেই। আমরা হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তারা কর্তব্য কাজে অবহেলা ও নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
প্রেস ক্লাবের সাবেক নেতাদের নিন্দা : এদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, খোন্দকার মনিরুল আলম ও শওকত মাহমুদ এক যুক্ত বিবৃতিতে প্রেস ক্লাবে বহিরাগত হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। গতকাল এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা বলেন, গতকাল আওয়ামী লীগ সমর্থক একদল লাঠিয়াল বাহিনী প্রেস ক্লাবে যে নগ্ন হামলা করেছে তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। প্রেস ক্লাব ঐতিহ্যবাহী একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। এখানে যার যার মতের কথা তারা নির্বিঘ্নে বলবে। সাংবাদিকরা বাধাহীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। এ অবস্থায় গণতন্ত্রের পক্ষে এবং বন্ধ গণমাধ্যম মুক্ত করার দাবিতে সাংবাদিকরা যখন একটি সমাবেশ করছিল, তখন শাসক দলের পেটোয়া বাহিনী এই ন্যক্কারজনক হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। আমরা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, প্রধানমন্ত্রীর অফিসের একজন কর্মকর্তা ক্লাব চত্বরে উপস্থিত থেকে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং মিছিল করে বহিরাগতদের উত্সাহিত করেছেন। এ ঘটনা নিন্দনীয়। আমরা প্রেস ক্লাবে হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।
আজ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ
আজ সোমবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ওপর সরকার দলীয় ক্যাডারদের হামলার প্রতিবাদ ও বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথভাবে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে।

 

Terms & Conditions © Copy right by Awami Brutality 2010