Home Videos Photos News & media Blogs Contact    
News and Articals

ঢাকায় দিনভর নারকীয় আওয়ামী সন্ত্রাস, সুপ্রিমকোর্ট, প্রেস ক্লাব ও ঢাবি শিক্ষকদের ওপর বর্বর হামলা, আহত অর্ধশত, সশস্ত্র আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহযোগী ছিল পুলিশও

Edit Date:12/29/2013 12:00:00 AM

ঢাকা শহরে গতকাল নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। নাশকতার আশঙ্কার নামে বিরোধী দলের সাড়াজাগানো ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ বা গণতন্ত্রের অভিযাত্রা কর্মসূচি পালন করতে না দিলেও সশস্ত্র আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গতকাল শহরময় দাপিয়ে বেড়িয়েছে। 
আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গতকাল সাংবাদিকদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের ওপর, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্টে আইনজীবীদের ওপর এবং দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর বর্বর হামলায় চালিয়েছে। এতে তিনটি মহান পেশায় জড়িত অন্তত অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন। 
এদিকে বিরোধী দলের মার্চ ফর ডেমোক্রেসিকে ঘিরে গতকাল ঢাকাকে নিষিদ্ধ নগরীতে পরিণত করে সরকার। দুদিন ধরে ঢাকাকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর গতকাল ঢাকার বাইরে থেকে কাউকে ঢাকায় ঢুকতে দেয়া হয়নি। গাড়ি তো দূরের কথা পায়ে হেঁটেও কাউকে ঢাকায় প্রবেশ করতে দেয়নি নিরাপত্তা বাহিনী। তল্লাশির নামে নারীসহ নাগরিকদের হয়রানি করে নিরাপত্তা বাহিনী। ঢাকায় ছিল না কোনো গণপরিবহন। 
মার্চ ফর ডেমোক্রেসি শেষে নয়াপল্টনে সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলে আগের দিন থেকেই সেখানে কারফিউ জারি করে যুদ্ধাবস্থা তৈরি করা হয়। কার্যত নয়াপল্টনকে একটি দুর্গে পরিণত করা হয়। সেখানে কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। 
এদিকে আওয়ামী লীগের নেতারা মার্চ ফর ডেমোক্রেসির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার ও কথিত নাশকতার আশঙ্কা করলেও গতকাল বিএনপি-জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো নাশকতার ঘটনাই ঘটেনি। বরং অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোটা হাতে পল্টন, মতিঝিল, সেগুনবাগিচাসহ ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছে আওয়ামী লীগ তার সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের সন্ত্রাসীরা। পুলিশও ছিলে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহযোগীর ভূমিকায়। পুলিশের গুলিতে গতকাল মালিবাগে সম্ভাবনাময় এক শিবিরকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া কমলাপুরে বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে এক রেলওয়েকর্মী। এছাড়া পুলিশ গতকাল ঢাকা শহরে নির্বিচারে গ্রেফতার চালিয়েছে। 
রাজধানী ঢাকার তোপখানা রোডে জাতীয় প্রেস ক্লাব আওয়ামী ফ্যাসিবাদী হামলায় আক্রান্ত হয়েছে। 
দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়ে পুলিশ প্রোটেকশনে আওয়ামী লীগের একটি মিছিল যাওয়ার সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই ‘জয় বাংলা’ বলে মিছিল থেকে প্রেস ক্লাব লক্ষ করে ইট নিক্ষেপ শুরু হয়। এ সময় সাংবাদিকরা বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবিতে প্রেস ক্লাবে সমাবেশ করছিলেন। পুলিশ হামলাকারীদের বাধা না দিয়ে বরং সহযোগিতা করে। হামলাকারীরা প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তা থেকে ইটপাটকেল নিয়ে ক্লাবের ভেতরে সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে নিক্ষেপ করতে থাকে। তারা লাঠিসোটা নিয়ে প্রেস ক্লাবের ভেতরে হামলা চালায়। তারা প্রেস ক্লাবে সমাবেশের মাইক ভাঙচুর করে।
সময় টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারে দেখা গেছে, পুলিশের উপস্থিতিতে হামলাকারীরা জয় বাংলা বলে সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর প্রাণনাশের হুমকি ও তাকে রাজাকার করে গালি দিতে থাকে। তারা বলে, ‘এই রুহুল আমিন গাজী বেরিয়ে আয়, এই রাজাকার বেরিয়ে আয়, আজ তোর দিন শেষ। তোকে খতম করে দেব।’
হামলায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের অন্তত অর্ধশত সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আমার দেশ-এর কাদের গনি চৌধুরী, মাহাবুবুর রহমান, মাহমুদা ডলি, জাস্ট নিউজের এমএ সাইদ, শাহ মোয়াজ্জেম, শীর্ষ নিউজের আজিজুর রহমান, ইসলামিক টেলিভিশনের মফিজুল হক বাবু, সাংবাদিক রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
হামলাকারীরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ও ক্যামেরাম্যানদেরও আক্রমণ করে। তারা বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর নাম ধরে তাকে হত্যার হুমকি দেয় এবং রাজাকার বলে গালাগাল করে। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সম্পূর্ণ নির্বিকার থাকতে দেখা গেছে। 
প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, আইজিপির কাছে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কয়েকবার ফোন করেন। তিনি হামলার খবর শোনার পরও হামলার প্রতিকারে কোনো উদ্যোগ নেননি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
প্রেস ক্লাবে হামলার পর বেলা ৩টায় সুপ্রিমকোর্টে নজিরবিহীন তাণ্ডব ও হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা। তারা পুলিশের সামনেই তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আদালতের ভেতর আইনজীবীদের ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় রেহানা নামে এক আইনজীবীসহ প্রায় অর্ধশত আইনজীবী নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। সোয়া ৩টায় আওয়ামী লীগের একটি লাঠি মিছিল সেখানে এসে সমবেত আইনজীবীদের ধাওয়া করে। এর আগে পুলিশ তাদের ভেতরে প্রবেশের জন্য গেট খুলে দিয়ে দূরে সরে যায়। সরিয়ে নেয় জলকামান ও রায়ট কার। আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা দফায় দফায় আইনজীবীদের ধাওয়া করে মারধর করে। তারা একটি মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন আসবাবপত্রে অগ্নিসংযোগ করে। তারা কোর্ট লক্ষ করে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ইটের আঘাতে সুপ্রিমকোর্ট ভবনের বেশ কিছু কাচ ভেঙে গেছে।
হামলাকারীরা আইনজীবীদের বিরুদ্ধে নানা উস্কানিমূলক স্লোগান দেয়। বিশেষ করে অ্যাডভোকেট মাহবুব হোসেনের নাম ধরে তাকে গালাগাল করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ সময় পুলিশ ছিল সম্পূূর্ণ নিষ্ক্রিয়। বরং তারা হামলাকারীদের উত্সাহ দেয়। হামলাকারীরা কোর্ট চত্বরে একটি প্যান্ডেল ভাঙচুর করে। তারা মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ওপর পুলিশের সহযোগিতায় হামলা করেছে সরকার সমর্থিত সংগঠন আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ। এতে ঢাবির অন্তত ১০ শিক্ষক আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষকরা হলেন— সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. তাজমেরী এসএ ইসলাম, সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. লায়লা নূর ইসলাম, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুর রশিদ, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, অধ্যাপক ড. সাবরিনা শারমিন, অধ্যাপক ইস্রাফিল রতন, অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী, অধ্যাপক ড. তাহমিনা আক্তার টপি, অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান।
বিরোধী দলের ডাকা মার্চ ফর ডেমোক্রেসিতে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে তাদের ওপর ওই হামলা চালানো হয়।
রোববার দুপুর দেড়টায় কার্জন হলের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ.ফ.ম. ইউসুফ হায়দারের নেতৃত্বে শতাধিক শিক্ষক সমাবেশের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে যান। এ সময় আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ সভাপতি মাসুদুর রহমান দুর্জয়, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রশিদ রাকার নেতৃত্বে তাদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। তারা শিক্ষকদের বেধড়ক পিটিয়ে জখম ও আহত করে। পাশেই পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ এর প্রতিবাদ করেনি বা হামলাকারীদের নিবৃত্ত করেনি। এ ঘটনায় শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
Terms & Conditions © Copy right by Awami Brutality 2010