Home Videos Photos News & media Blogs Contact    
News and Articals

ঢাবি শিক্ষকদের ওপর আ.লীগের বর্বরোচিত হামলা

Edit Date:12/29/2013 12:00:00 AM

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা। গতকাল (রোববার) বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকা ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচিতে সহমত প্রকাশ করে মৌন মিছিল বের করলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় প্রজন্ম লীগের সন্ত্রাসীরা হকস্টিক, রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশের নীরবতায় এলোপাতাড়ি লাটিপেটা করে শিক্ষকদের রক্তাক্ত করে সন্ত্রাসীরা। লাঞ্ছিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন মহিলা শিক্ষক। এছাড়া অন্তত ১০ জন শিক্ষক গুরুতর আহত হন। 
আওয়ামী ক্যাডারদের হামলায় আহত শিক্ষকরা হলেন, প্রফেসর ড. আব্দুর রশিদ, প্রফেসর ড. সাবরিনা শাহনাজ, প্রফেসর ড. তাহমিনা আখতার টপি, প্রফেসর ড. লায়লা নুর ইসলাম, প্রফেসর ড. মোর্শেদ হাসান, প্রফেসর ড. ই¯্রাফিল রতন, প্রফেসর ড. গোলাম রাব্বানী, প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান প্রমুখ।
শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, মৌন মিছিল শুরু করার আগে শাহবাগ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অন্যান্যদের হামলা থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব পুলিশের নয়। এদিকে, হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আজ সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে প্রতিবাদ সভার আহ্বান করেছেন বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত সাদা দলের শিক্ষকরা। এছাড়া আগামী ১ জানুয়ারি প্রতিবাদ সভা করবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। গতকাল রাতে সমিতির এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানা যায়। একই সঙ্গে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বয়কট করার হুমকি প্রদান করেন শিক্ষকরা। 
জানা যায়, গতকাল দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিরোধী দলের ডাকা ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’য় যোগ দিতে নয়াপল্টন যাওয়ার পথে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, প্রফেসর ড. তাজমেরী এসএ ইসলামের নেতৃত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন শতাধিক শিক্ষক। পুলিশ মার্চ ফর ডেমোক্রেসির সমর্থনে শিক্ষকদের অভিযাত্রাটিকে প্রেসক্লাবের কাছে কদম ফোয়ারার কাছে আটকে দেয়। এসময় মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান দুর্জয় ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ নজরুলের নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র দল শিক্ষকদের দিকে তেড়ে আসে। পুলিশ উদ্ধত আচরণ করতে নিষেধ করলে প্রজন্ম লীগের দলটি শিক্ষকদের লক্ষ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এসময় তারা গুলি করে শিক্ষকদের রাজপথে শুইয়ে রাখার হুমকি দেয়। কিন্তু পুলিশ এসময় নীরব ভূমিকা পালন করে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়। পুলিশ ও প্রজন্ম লীগের বাধার মুখে শিক্ষকরা রাস্তায় বসে পড়ে একটি সমাবেশ করেন। সেখানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. তাজমেরী এস ইসলাম, সমিতির সাধারণ সম্পাদক মামুন আহমেদ, সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. আখতার হোসেন খান প্রমুখ। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষক প্রফেসর ড. আবুল হাসনাত, প্রফেসর ড. একেএম ওবায়দুল ইসলাম, প্রফেসর ড. রাশেদুল হাসান, প্রফেসর ড. সুকোমল বড়–য়া, প্রফেসর ড. মো. আলমোজাদ্দেদী আলফেসানী, মো. ছিদ্দিকুর রহমান খান, প্রফেসর ড. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ। তারা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধের দাবি জানান।
সমাবেশ চলাকালে বেলা আড়াইটার দিকে হঠাৎ করেই প্রজন্ম লীগের ব্যানারে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা গালিগালাজ করতে করতে শিক্ষকদের ওপর চড়াও হয়। রড, লাঠি আর হকস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালাতে থাকে শিক্ষকদের। কদম ফোয়ারার সামনে থেকে হামলা চালাতে চালাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল পর্যন্ত তেড়ে আসে তারা। এসময় পুলিশ বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও সন্ত্রাসীদের বর্বোরচিত হামলা থেকে শিক্ষকরা রেহাই পাননি। শিক্ষকদের রক্তাক্ত করে তারা। উপস্থিত মহিলা শিক্ষকদেরও লাঞ্ছিত করতে দ্বিধা করেনি সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী। এসময় তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অশ্রাব্য গালাগাল করে। 
এদিকে শিক্ষকদের ওপর বর্বোরচিত হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে তাৎক্ষণিকভাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে পুলিশের সহযোগিতায় এই হামলার নিন্দা জানান শিক্ষকরা। তারা এর প্রতিবাদে আজ অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন। এছাড়া হামলার বিচার না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মকা-ে সহযোগিতা করা বন্ধের হুমকি দেন তারা। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলামকে বারবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
হামলার নিন্দা : এদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ২৫০ জন শিক্ষক। গতকাল এক বিবৃতিতে তারা এই নিন্দা জানান। শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত থাকলেও সন্ত্রাসীদের প্রতিহতকরণে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। - See more at: http://www.dailyinqilab.com/2013/12/30/151599.php#sthash.wWyimYC5.dpuf

Terms & Conditions © Copy right by Awami Brutality 2010