Home Videos Photos News & media Blogs Contact    
News and Articals

মানবাধিকার প্রতিবেদন : নভেম্বর ২০১০

Edit Date:12/30/2010 12:00:00 AM

 

 

সেন্টার ফর মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এমআরটি) গবেষণা ও প্রশিক্ষণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এমআরটি’র গবেষণা কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালের নভেম্বর মাসের ৩০ দিনে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের পরিসংখ্যান নিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে দেশের প্রধান জাতীয় দৈনিকগুলোর সংবাদকে ভিত্তি ধরা হয়েছে।

খুন

নভেম্বর মাসে মোট খুন হয়েছে ৩৩৪ জন। যার মধ্যে ২২০ জন পুরুষ, ৮০ জন মহিলা ও ৩৪ জন শিশু। প্রতিদিন গড়ে খুন হয়েছে ১১ জনেরও বেশি। এর মধ্যে গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটেছে ৯৬ টি।  উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে দেশে গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটে ৯৩টি। এছাড়া ইভটিজিংয়ের ঘটনায় প্রতিবাদ করতে করতে গিয়ে খুন হন ৫ জন। গত অক্টোবরে এই সংখ্যা ছিল ২। তাছাড়া যৌতুক ও অন্যান্য কারণে স্বামীগৃহে নির্যাতনের পর জীবন দিতে হয় ৩৫ জন নারীকে। অক্টোবর মাসে যার সংখ্যা ছিল ১৮ জন।
২ নভেম্বর গাজীপুরে এক পাষণ্ড পিতা ১১ মাসের শিশুপুত্র রিয়াজকে হাত-পা, মাথা ছিড়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে গ্রেফতারকৃত পিতা তৌহিদুল জানান, রিয়াজ জন্মের পর থেকেই অসুস্থ থাকত। সব সময় কান্না করত। টাকার অভাবে তিনি রিয়াজের চিকিৎসা করাতে পারতেন না। রোববার চিকিৎসা করানোর কথা বলে  ছেলেকে বাড়ির পাশের একটি গজারি বনের ভেতরে নিয়ে প্রথমে নাক-মুখ চেপে ধরে হত্যা করেন। এরপর তার  দেহ থেকে হাত-পা ও মাথা টেনে ছিঁড়ে আলাদা করা হয়। পরে লাশের টুকরোগুলো ওই বনের ভেতরে একটি  ডোবার মধ্যে ফেলে দেন।
১১ নভেম্বর মানিকগঞ্জে মিনু বেগমকে যৌতুকের কারণে স্বামীগৃহে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
১৫ নভেম্বর চৌদ্দগ্রামে ইভটিজারদের হাত থেকে পুত্রবধূর ইজ্জত বাঁচাতে গেলে বখাটেদের হত্যা করে মোসলেম মিয়াকে।
১৭ নভেম্বর ঈদুল আযহার দিন বিকালে কুড়িগ্রামে নাতনিকে ইভটিজিং করার প্রতিবাদ করতে গেলে বখাটেরা গলা টিপে হত্যা করে বৃদ্ধ নানা আব্দুস সুবহানকে ।
৩০ নভেম্বর চাঁদপুরের মতলবে ইভটিজারদের হাতে খুন হয় মেয়ের বাবা মনির হোসেন সরকার।

আইন-প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে নিহত ১৪

নভেম্বর মাসের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। এর মধ্যে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধেই নিহত হয় ১০ জন। তন্মধ্যে র‌্যাবের তথাকথিত ক্রসফায়ারে ৯ জন ও পুলিশের হাতে ১ জন  প্রাণ হারান। এছাড়া পুলিশ হেফাজতে মারা যায় ৪ জন।
২ নভেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুরে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মারা যায় শমসের মোমিন শিমুল।
৬ নভেম্বর খুলনায় পুলিশের গুলিতে মারা যায় মতিলাল সরকার।
১২ নভেম্বর সাভারে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মারা যায় হাসান ও মনির নামে দুই যুবক।
১৪ নভেম্বর  নারায়নগঞ্জে র‌্যাবেকর ক্রসফায়ারে নিহত হয় ফজলুল হক। একই দিন নরসিংদীতে পুলিশ হেফাজতে শরীফ মিয়া নিহত হয়।
২০ নভেম্বর যশোরে পুলিশ হেফাজতে নিহত হয় ইমরান হোসেন বাপ্পী।
২৩ নভেম্বর সাভারের গোকুল নগরে র‌্যাবের হাতে নিহত হয় এক যুবক।
২৪ নভেম্বর ঝিনাইদহ ও হবিগঞ্জে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয় যথাক্রমে আব্দুল কুদ্দুস ও হাকিম।
২৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পুলিশ হেফাজতে নিহত হয় নান্টু কসাই। একই দিনে মোহাম্মদপুরে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয় আমির হোসেন।
২৯ নভেম্বর রাজধানীর বংশালে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মারা যায় শামসুল ইসলাম টিপু।
৩০ নভেম্বর নরসিংদীতে পুলিশ হেফাজতে মারা যায় সিরাজ মিয়া।

আত্মহত্যা

নভেম্বর  মাসে বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যা করেছে ৩৬ জন। এর মধ্যে নারী ২৩, পুরুষ ৬ ও  শিশু ৭। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বখাটেদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তরুণীরা আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এছাড়া ইভটিজিং, পারিবারিক কলহ ও অভিমান, ঋণের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ  হওয়া অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে।
১ নভেম্বর বরিশালের মুলাদিতে ঋণের টাকা শোধ করতে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা করে জনৈক যুবক।
১৪ নভেম্বর টাঙ্গাইলের বাসাইলে ছোট বোনের হলুদের অনুষ্ঠানের দিন রাতে আত্মহত্যা করে হাসিনা।
২২ নভেম্বর বরগুনায় প্রেমিক বিয়ে করতে অস্বীকার করায় আত্মহত্যা করে জাকিয়া।

ধর্ষণ

নভেম্বর মাসে সারাদেশে ধর্ষণের শিকার হয় মোট ৩১ জন। যার মধ্যে ১৩ জন নারী ও ১৮জন শিশু। এ ক্ষেত্রে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৯টি। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১০ জনকে। প্রায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীন দলের সমর্থনপুষ্টরা জড়িত  বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ৬ নভেম্বর রংপুরের পীরগঞ্জে এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের চিত্র ভিডিও করে তা প্রচার করে স্থানীয় বখাটেরা।
৯ নভেম্বর বরিশালের উজিরপুরে এক কিশোরীকে চিকিৎসার নামে বারো দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে জনৈক ভণ্ড ফকির।
১০ নভেম্বর লালমনিরহাটে ৩ বছরের  অবুঝ শিশু ধর্ষণের শিকার হন এক নরপিশাচের হাতে।
১৭ নভেম্বর বাগেরহাটে ছবি আক্তার নামে এক গৃহবধুকে যুব ও শ্রমিক লীগের শুভ, মিজান, মল্লিক ও খোকা গণধর্ষণের পরে বিষ প্রয়োগে নির্মমভাবে হত্যা করে।
২২ নভেম্বর বাহুবলে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। একই দিন পাবনায় বখাদেরে হাতে গণধর্ষণের শিকার হয় এক কিশোরী। পরে আজিজুল নামে এক ধর্ষক গণপিটুনিতে নিহত হয়।

ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন

সারাদেশে ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। নভেম্বর মাসে ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়ার ২২৫টি ঘটনা পত্রিকায় এসেছে। এর মধ্যে ৩ জন তরুণী ইভটিজিং এর অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেন। ইভটিজিংয়ের ঘটনার প্রতিবাদ করায় প্রাণ দিতে হয় ৫ জনকে।
ইভটিজাদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী।
যার মধ্যে, ১ নভেম্বর বগুড়ার শেরপুরে ইভটিজিংয়ের অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে স্কুলছাত্রী রূপালী রানী (১৫) ।
৪ নভেম্বর চট্টগ্রামে আটক ইভটিজারকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় ছাত্রলীগ ক্যাডারা।
৬ নভেম্বর কুমিল্লায় পূজা অনুষ্ঠানে ইভটিজার ছোট ভাইয়ের পক্ষ নিলে গণপিটুনিতে নিহত হয় ছাত্রলীগ নেতা জাকির। এর জের ধরে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর ও সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘরে হামলা করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।
৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে বখাটেরা উত্যক্ত করলে তার প্রতিবাদ করায় ৬ সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।
৮ নভেম্বর কুমিল্লার মুরাদনগরে ইভটিজার ছেলের বখাটেপনা থামাতে না পেরে নিরূপায় হয়ে  আত্মহত্যা করে এক অসহায় মা।
১৯ নভেম্বর দিনাজপুরে ব্র্যাক স্কুলের ৫ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী শাবনুরের ইভটিজিংয়ের বিচার চাওয়ায় বখাটেরা তার পরিবারের সদস্যদেরকে মারধর করে। ঘটনার অপমান সইতে না পেরে ক্ষোভে আত্মহত্যা করে শাবনুর।

সীমান্ত সন্ত্রাস

নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিহত হয়েছে ১০ জন। অন্যদিকে, গত অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিহত হয় ৬ জন। প্রায় ক্ষেত্রেই বিএসএফ তাদেরকে গুলি করে হত্যা করেছে। এছাড়া সীমান্তে বিএসএফের হাতে অপহৃত হয়েছে ৬ জন এবং আহত হয় ৪ জন।
৩ নভেম্বর বুড়িমারি সীমান্তে বিএসএফের হাতে  নিহত হয় শহিদুল ইসলাম।
৮ নভেম্বর যশোর সীমান্তে বিএসএফের হাতে  নিহত হয় মজনু বিশ্বাস।
৯ নভেম্বর সাতক্ষীরার গাজীপুর, পুটখালী ও পাটগ্রামের বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের হাতে নিহত হয় শরীফুল ইসলাম, মজনুর রহমান, মোক্তাল হোসেন।
১৫ নভেম্বর বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের হাতে  নিহত হয় আব্দুল গাফফার ও মতিয়ার নামে দুই বাংলাদেশী। একই দিন দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফের হাতে নিহত হয় মুক্তার।

রাজনৈতিক সংঘর্ষ

নভেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ২৫ জন। আর আহত হয়েছেন ২৩৩০ জন। প্রতিদিন গড়ে ৭৮ জন আহত হয়েছেন। শুধু আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীন কোন্দলে নিহত হয়েছে ১১ জন। উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে  অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহতের সংখ্যা ছিল ১০ জন।
গত ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিনের বাসার দলীয় ক্যাডারদের আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় নিহত হন ৩জন এবং আহত হয় এমপিসহ ৫জন।
২৩ নভেম্বর পাওনা টাকা চাওয়ায় বাগেরহাট জেলার ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক এমাদুল হককে কুপিয়ে হত্যা করে যুবলীগ ক্যাডাররা।
এছাড়া ৬ নভেম্বর রাজধানীতে নিজ দলের সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা দীন ইসলাম  দীলাকে।

সাংবাদিক নির্যাতন

নভেম্বর মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সদস্য ও পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হন ৪৭ জন সাংবাদিক।
৩ নভেম্বর ঢাবির এফ রহমান হলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে নিউ নেশন প্রতিবেদক কদরুদ্দিন শিশিরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।
৫ নভেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ে অফিস কাবে মন্ত্রীর সামনেই শ্রমিক লীগ ক্যাডারদের হামলায় আহত হন ১০ সাংবাদিক।
৬ নভেম্বর বিয়ানীবাজারে ইত্তেফাক প্রতিনিধি আব্দুল খালেককে মারধর করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।
৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে টিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ৬ সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করে ঢাবি ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।
১৪ নভেম্বর চাপাইনবাবগঞ্জে হরতাল চালাকালে ক্ষমাতাসীনদের হামলা আহত ৩ সাংবাদিক।
২৮ নভেম্বর বরিশালে বিএনপির সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে আহত হয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ২২ সাংবাদিক।
৩০ নভেম্বর হরতাল চলাকালে ঢাকায় শীর্ষ নিউজের স্টাফ রিপোটার হাসনাইন ইমতিয়াজ ও সমকালের স্টাফ রির্পোটার রাজিব আহম্মেদকে নির্মমভাবে প্রহার করে পুলিশ।

চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি

২০১০ সালের নভেম্বর মাসে সারাদেশে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে মোট ৪০৮টি। এরমধ্যে ৩৮টি চুরি, ২০৭টি ডাকাতি  এবং ১৬৩টি  ছিনতাই এর ঘটনা ঘটে।  এসব ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪১ জন। আর আহত হয়েছে ৫৩৪ জন।
উল্লেখ্য, প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চুরি, ডাকাতি কিংবা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

সড়ক দুর্ঘটনা

নভেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৩৯৫জন। যা গড়ে প্রতিদিন ১৩ জনেরও বেশি। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ১২৬৭ জন অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪২ জনেরও বেশি।

Tags: ,

 

Terms & Conditions © Copy right by Awami Brutality 2010