Home Videos Photos News & media Blogs Contact    
News and Articals

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্র : আহত অর্ধশতাধিক, রোববার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা পুুলিশের হামলায় ৭ সাংবাদিক সাংস্কৃতিককর্মীসহ আহত ৩০

Edit Date:12/22/2010 12:00:00 AM

 

অলিউল্লাহ খান সোহরাব

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী টানা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। এ সময় এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের ওপর রামদা, ছুরি, লাঠি, হকিস্টিক ও ককটেল নিয়ে আক্রমণ করে। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষ ঠেকাতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ব্যবহার করে। সংঘর্ষের সময় কিছু বহিরাগতকে একটি পক্ষের হয়ে সংঘর্ষে অংশ নিতে দেখা গেছে। ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ১০০ লোক আহত হয়েছে। সংঘর্ষের পর পুলিশ সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের অফিসে হামলা চালিয়ে ৭ সাংবাদিক, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীসহ ৩০ জনকে আহত করে। আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রোববার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। 
তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা বেশিরভাগ সময় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। ঘটনার সময় ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খল কর্মীরা রাজপথে নেমে অন্তত ১৫টি গাড়ি ভাংচুর করে। সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের রাস্তায় প্রায় ৩ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা একে অপরকে উদ্দেশ করে ১০-১২ রাউন্ড গুলি ও ২০-২৫টি ককটেল ফুটিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়। এতে ক্যাম্পাস ও এর আশপাশ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ২০-২৫ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সংঘর্ষের পর থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
জানা যায়, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে বিবাদমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। চলতি প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রমে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করা নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। গতকাল সকালে জবি ছাত্রলীগ সভাপতি রিপনের সঙ্গে একটি বিষয় নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আরিফের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় একে অন্যকে চ্যালেঞ্জ করে। এর পরপরই সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা সঙ্গবদ্ধ হতে থাকে। বেলা ১১টায় সাধারণ সম্পাদক গ্রু্রপের কর্মী আপন শহীদ মিনারের সামনে এলে জবি ছাত্রলীগ সভাপতি রিপন তাকে নিজেই চড় মারেন এবং তাকে ক্যাম্পাসে আসতে নিষেধ করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকা সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কয়েকজন সিনিয়র নেতা এর প্রতিবাদ করলে রিপন তাদেরও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেন। এ খবর সাধারণ সম্পাদকের কাছে পৌঁছলে তিনি ক্যাম্পাসে আসেন এবং রিপনের কাছে কারণ জানতে চান। মুহূর্তের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকে। দুপুর ১টার দিকে রিপন গ্রুপের কর্মীরা অতর্কিত প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালিয়ে ক্যাম্পাস থেকে ধাওয়া করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। এ সময় একপক্ষ আরেকপক্ষের ওপর রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লাঠিসোটা, রড ও হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালায়। সভাপতি গ্রুপ অবস্থান নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেটে ও সম্পাদক গ্রুপ ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায়। সংঘর্ষের সময় একটি পক্ষে কিছু বহিরাগতকে দেখা গেছে। টানা দু’ঘণ্টার সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়। পুরো ঘটনায় পুলিশকে দর্শকের ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে ও লাঠিচার্জ করে। 
সংঘর্ষের ঘটনায় আহতরা হলো রয়েল, মোস্তফা, রোকন, জামাল, রাজীব, বিপু, মাসুদ, শাকিল, বিল্লাল, তানভীর, রাজিব, সাগর, মিঠুনদাস, শহিদুল, রফিক, তরিকুল, আলাউদ্দিন, মিলন, সোহাগ প্রমুখ।
এদিকে সংঘর্ষ শেষ হওয়ার পর নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকা দাঙ্গা পুলিশ হঠাত্ করেই ক্যাম্পাসে আক্রমণাত্মক হয়ে নিরীহ ছাত্র-শিক্ষকদের পেটাতে থাকে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কক্ষেও অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সমিতিতে থাকা ৭ সাংবাদিককে পুলিশ পিটিয়ে আহত করে ও কক্ষ ভাংচুর করে। আহতরা হলেন দৈনিক ইন্ডিপিন্ডেন্ট পত্রিকার জবি প্রতিনিধি জামিল খান, কালের কণ্ঠের জসিম রেজা, মানবজমিনের সোলায়মান সালমান, শীর্ষ নিউজের ইয়াসিন হোসেন, খবরপত্রের প্রিন্স মাহমুদ, বাংলাবাজারের রিফাত ও সকালের খবরের জবি প্রতিনিধি তানভীর রায়হান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে ভিসি অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন বলেন, ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারকে আহ্বায়ক করে ১২ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাংবাদিক সমিতিতে হামলার ব্যাপারে ভিসি বলেন, এ ঘটনা কেন পুলিশ করতে গেল তা আমি নিজেও বুঝতে পারছি না। তদন্তের সময় এ ঘটনাকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে, এতে কারও কোনো ইন্ধন ছিল কিনা
 
Terms & Conditions © Copy right by Awami Brutality 2010