Home Videos Photos News & media Blogs Contact    
News and Articals

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি তেলেসমাতি । চার শিক্ষকের চাকরিচ্যুতির আদেশ স্থগিত

Edit Date:10/1/2010 12:00:00 AM

 বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি তেলেসমাতিচার শিক্ষকের চাকরিচ্যুতির আদেশ স্থগিত প্রতীক ইজাজ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক ও চিকিৎসকদের ডিগ্রি নিয়ে রীতিমতো তেলেসমাতি চলছে। প্রয়োজনীয় ডিগ্রি ছাড়াই অনেকে শিক্ষক পদে নিয়োগ পাচ্ছেন। আবার ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও অনেককে বিদায় নিতে হচ্ছে। দেশের বাইরে থেকে আনা পিএইচডি ডিগ্রি বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) এসে হয়ে যাচ্ছে ক্লিনিক্যাল ডিগ্রি। আর তা দিয়ে অবলীলায় নিয়োগ পাচ্ছেন চিকিৎসকরা। চাকরি করছেন বছরের পর বছর ধরে।
খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া ডিগ্রি নিয়ে কর্মরত সাধারণ চিকিৎসকদের চাকরিচ্যুতির মতো ঘটনাও ঘটছে এখানে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া এমএস (মাস্টার্স অব সার্জন) ডিগ্রি বিশ্ববিদ্যালয় অস্বীকার করায় সবচেয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অবশ্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) দন্ত্য অনুষদের চার শিক্ষকের চাকরিচ্যুতির আদেশ স্থগিত করেছেন উচ্চ আদালত। ওই শিক্ষকদের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার আদালতের একটি বেঞ্চ চার সপ্তাহের জন্য এই স্থগিতাদেশ দেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আদেশকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। এই চার সহকারী অধ্যাপক হলেন কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি অ্যান্ড অ্যান্ডোডনটিঙ্ বিভাগের ডা. এ কে এম বাশার, ডা. মাসুদুর রহমান, ডা. মাহমুদা আখতার ও ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত দেশের বাইরে থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে উপউপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এই চার শিক্ষকের কোনো দোষ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের

উচিত ছিল বিএমডিসি থেকে স্বীকৃতি এনে কোর্সটি চালু করা। আমরা কোর্টের স্টে অর্ডারের কথা জেনেছি। আদালত যেভাবে বলবেন সেভাবেই হবে। তবে আমরা চাই না ওঁদের (চার শিক্ষকের) কোনো ক্ষতি হোক। আশা করছি বিএমডিসি কাউন্সিল পুনর্গঠন হলে এ ব্যাপারে একটি চূড়ান্ত সমাধান হবে।'

ডিগ্রি নেই, তবুও শিক্ষক
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালায় (শিক্ষক) উল্লেখ রয়েছে, ক্লিনিক্যাল বিষয়ে শিক্ষক হতে হলে নির্দিষ্ট বিষয়ে এমডি, এমএস, এফসিপিএস, এমআরসিপি, এফআরসিএস বা সমমানের কোনো ক্লিনিক্যাল পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি থাকা অপরিহার্য। পিএইচডি ও এমফিল ডিগ্রি অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে ডিপ্লোমা ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য হবে না।
কিন্তু দন্ত্য অনুষদেই কিছু শিক্ষকের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় সে নিয়ম মানেনি। এ রকম পাঁচ শিক্ষকের নাম জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে একজন দন্ত্য অনুষদের ডিন ও কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সামসুল আলম। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাশিয়া থেকে দন্তরোগ বিষয়ে আড়াই বছরের একটি রেসিডেনশিয়াল কোর্স করে এসে ১৯৮৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। তখন বিএমডিসির এক সদস্য ছিলেন তাঁর নিকটাত্মীয়। তিনি সেই প্রশিক্ষণকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ডিপ্লোমা ডিগ্রির (বর্তমান এমএসের সমান) স্বীকৃতি আদায় করিয়ে দেন।
ডা. সামসুল আলম এ ব্যাপারে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কোর্সটিকে বিএমডিসি স্বীকৃতি দিয়েছে। তাতে আমার কোনো হাত ছিল না।' তিনি বলেন, '১৯৮৯ সালে তৎকালীন আইপিজিএমআরে যোগ দিয়ে পিএসসির মাধ্যমে প্রথমে সহকারী অধ্যাপক ও একই বছরে সহযোগী অধ্যাপক পদে (চলতি দায়িত্বে) পদোন্নতি পাই। পরে সেটি বিশ্ববিদ্যালয় হলে নিয়মিত হই ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া সুযোগ ব্যবহার করে পারসোনাল প্রমোশন হিসেবে অধ্যাপক হই।'
কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রির অধ্যাপক ডা. আলী আজগর মোড়ল শিক্ষক হয়েছেন শুধু 'ডিডিএস' (ডিপ্লোমা ইন ডেন্টাল সার্জন) ডিপ্লোমা ডিগ্রি নিয়ে। ২০০৬ সালে যখন তিনি সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক হন, তখন পদোন্নতিপত্রে নোট দেওয়া ছিল_'পিএইচডি ডিগ্রির বিএমডিসি কর্তৃক স্বীকৃতি সাপেক্ষে'। কিন্তু তিনি পদোন্নতি পান ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, আর বিএমডিসি পিএইচডির স্বীকৃতি দেয় ওই বছরের ডিসেম্বরে। অর্থাৎ অবৈধভাবে তিনি প্রায় এক বছর সহযোগী অধ্যাপক পদে ছিলেন।
কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রির সহকারী অধ্যাপক ডা. মোজাম্মেল হোসেন ও ওরাল সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সামিউল আলম বিন্তু নিয়োগ পেয়েছেন কেবল রাজনৈতিক বিবেচনায়। জাপান থেকে আনা পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়া শিক্ষক হওয়ার প্রয়োজনীয় আর কোনো ডিগ্রিই তাঁদের নেই। ডা. মোজাম্মেল নিয়োগ পেয়েছেন গত ফেব্রুয়ারিতে। তিনি '৯৫-৯৬ সালে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আর ডা. বিন্তু ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন।
অর্থোডনটিঙ্ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. গাজী শামীম হাসান জাপানের নিগাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানুষের মুখমণ্ডলের আকৃতি পরিবর্তন বিষয়ের ওপর পিএইচডি করেন। পরে দেশে ফিরে সেই ডিগ্রিকে বিএমডিসিকে দিয়ে ক্লিনিক্যাল বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করিয়ে নিয়ে ২০০৬ সালে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। সূত্র জানায়, বিএমডিসির বর্তমান রেজিস্ট্রার ডা. জেড এইচ বসুনিয়ার ছেলের দাঁতের চিকিৎসক হিসেবে তিনি তাঁর পিএইচডি ডিগ্রিকে ক্লিনিক্যাল ডিগ্রির মর্যাদা আদায় করিয়ে নেন। এই চিকিৎসক বিগত জোট সরকারের সময় বিএনপিকে আর্থিক সহযোগিতা করতেন বলে জানা গেছে।
ডা. গাজী শামীম হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বিএমডিসি যদি কোনো বিষয়কে ক্লিনিক্যাল বলে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে তো বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু করার নেই। আর আমার যে পিএইচডি তা কেবল গবেষণা নয়, ক্লিনিক্যালও ছিল। কারো কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।'
ওরাল সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. কাজী বিল্লুর রহমান রাশিয়া থেকে বাংলাদেশের বিডিএসের সমমানের এমডি পাস করেন এবং সেখানেই ম্যাঙ্েিলাফেশিয়াল সার্জারির ওপর পিএইডডি করেন। তিনি '৯৮ সালে দেশে ফেরেন ও ২০০৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই সময় বিএমডিসির বর্তমান রেজিস্ট্রারকে দিয়ে পিএইচডিকে ক্লিনিক্যাল ডিগ্রি হিসেবে স্বীকৃত করে নেন ও সে অনুযায়ী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তিনি বিএনপি সমর্থিত ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) আজীবন সদস্য।
ডা. কাজী বিল্লুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বিএমডিসি কর্তৃক স্বীকৃত যেকোনো ডিগ্রি শিক্ষক হওয়ার জন্য উপযোগী। সুতরাং আমার নিয়োগে কোনো সমস্যা ছিল না।' কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, তাঁর এই পিএইচডি কোনো ক্লিনিক্যাল বিষয় নয়। এটি একটি গবেষণা কাজ। তাও আবার মূল বিষয়ের একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ের ওপর।
কথা বলার জন্য ডা. সামিউল আলম বিন্তু ও ডা. আলী আজগর মোড়লকে পাওয়া যায়নি। তাঁদের দুজনের মুঠোফোনই বন্ধ ছিল।

ডিগ্রি দু শর, শিক্ষার্থী আরো এক শ
দন্ত্য অনুষদের যে এমএস ডিগ্রি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে খোদ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সেই ডিগ্রিটি এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে এমএস ডিগ্রিতে পড়ছেন ১০০ চিকিৎসক। গত ২০০১ সালে চালু হওয়ার পর এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই ডিগ্রি অর্জন করেছেন প্রায় ২০০ চিকিৎসক। তাঁদের সবাই বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। এমনকি সেসব প্রতিষ্ঠানে তাঁরা এই ডিগ্রি ব্যবহার করে পদোন্নতিও পেয়েছেন। অথচ বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানই এই ডিগ্রির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি।

পদোন্নতি নিয়ে সরকারি চাকরিতেই ১৫ জন
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে এমএস ডিগ্রির কারণে চার চিকিৎসককে চাকরিচ্যুত করতে চাইছে, সেই একই ডিগ্রি নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেক চিকিৎসকই পদোন্নতি পেয়ে শিক্ষক হয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এ রকম ১৫ শিক্ষকের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজের কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ আইচ, প্রস্থোডন্টিঙ্ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বোরহান উদ্দিন, ডা. শিবি্বর আহমেদ ওসমানি ও ডা. ফারুকী নাহার বীণা, পেরিওডন্টোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. লায়লা আক্তার বানু, ওরাল সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জেসমিন, কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. উম্মে কুলসুম রোজী, সহকারী অধ্যাপক ডা. অনুপম পোদ্দার ও ডা. মাহমুদুর রহমান কল্লোল, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. আবুল হাসান, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. আঞ্জুমান আরা ও ডা. ফারুক সিহাব, রংপুর ডেন্টাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. শরিফা বেগম, বগুড়া মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ হেল কাফি ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. আহসান।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কেবল দন্ত্য অনুষদ নয়, গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসা নানা অনিয়মের জন্যই আমাদের সময়পরম্পরায় কথা বলতে হচ্ছে। বিশেষ করে ডিগ্রি নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে, তা বিএমডিসির জন্যই। গত ২০ বছর প্রতিষ্ঠানটি অকার্যকর রয়েছে। যত দিন এটি কার্যকর না হবে, তত দিন এ অবস্থা চলতেই থাকবে।' তিনি দন্ত্য অনুষদসহ বিভিন্ন বিভাগে পদোন্নতি, নিয়োগ ও ডিগ্রি নিয়ে যে অনিয়ম রয়েছে, ধারাবাহিকভাবে তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, 'দোষী সাব্যস্ত হলে অবশ্যই তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
কথা বলার জন্য বিএমডিসির রেজিস্ট্রার ডা. জেড এইচ বসুনিয়াকে পাওয়া যায়নি। বারবার তাঁর মুঠোফোন বাজলেও তিনি তা ধরেননি।

http://174.133.126.18/~dailykal/?view=details&type=gold&data=Football&pub_no=299&cat_id=1&menu_id=13&news_type_id=1&index=7

 

Terms & Conditions © Copy right by Awami Brutality 2010