Home Videos Photos News & media Blogs Contact    
News and Articals

গোলটেবিলে বিশিষ্টজনের অভিমত : গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে আদালতের মর্যাদা রক্ষা করা যাবে না

Edit Date:10/1/2010 12:00:00 AM

 

গোলটেবিলে বিশিষ্টজনের অভিমত : গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে আদালতের মর্যাদা রক্ষা করা যাবে না

স্টাফ রিপোর্টার
গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে বা আদালত অবমাননার মামলা দিয়ে শাস্তির মাধ্যমে আদালতের মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব নয়। ন্যায়বিচারের মাধ্যমে মানুষের মনে আস্থা সৃষ্টি করে আদালতকে তার নিজের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। গতকাল ‘আদালতের মর্যাদা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব মন্তব্য করেন। 
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন, সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, প্রখ্যাত সাংবাদিক আতাউস সামাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ, চিন্তাবিদ ও রাজনীতিক ড. ফয়জুল হাকিম, সদ্য কারামুক্ত সাংবাদিক আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি অলিউল্লাহ নোমান, এনার্জি সল্যুশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ফরিদ উদ্দীন আহমেদ বক্তৃতা করেন। 
এনার্জি সল্যুশন অব বাংলাদেশ (ইএসবি) আয়োজিত এ গোলটেবিল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাহফুজউল্লাহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক জাহেদ চৌধুরী।
গোলটেবিল আলোচনায় ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আদালতের মর্যাদার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, আদালতের মর্যাদা আদালতকেই রক্ষা করতে হবে। আর এ জন্য ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সম্প্রতি উচ্চ আদালত কর্তৃক আদালত অবমাননা মামলায় আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও রিপোর্টার অলিউল্লাহ নোমানকে সাজা দেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজনের সাজা খাটা শেষ হয়ে গেছে। অথচ এখনও রায়ই লেখা হয়নি। পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে এটা চলতে পারে না, যেখানে কোনো রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকবে না। 
মাহমুদুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর প্রতিটিরই জবাব দিয়েছেন। তারপরও তাকে বিশেষ উদ্দেশ্যে এ শাস্তি দেয়া হয়েছে। যেখানে বিচারপতিরা বলেন, ‘ট্রুথ ইজ নো ডিফেন্স’ সেখানে মানহানি হবে না তো কি হবে? বিচারপতিদের উদ্দেশে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, মানুষের সামনে নিজেদের আর অপদস্ত করবেন না। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে মানুষের মনে আস্থা তৈরি করুন। আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে এলে আদালতের মর্যাদা রক্ষা পাবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট প্রতিনিয়ত মাহমুদুর রহমানের কথা জানতে চায়। আমি তাদের জানিয়েছি, বাংলাদেশে সত্য বললে জেলে যেতে হয় আর মিথ্যা বললে বাইরে থাকা যায়।
প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, শপথ নেয়ার পর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আইনের শাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আপনি যে বক্তব্য রেখেছেন, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। আপনি যা বলেছেন তা যদি কার্যকর করতে পারেন, তাহলে সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশ সোনার বাংলা হবে। এখন আমরা আপনার কাজের দিকে তাকিয়ে আছি।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, আদালতের মর্যাদা রক্ষার জন্য আদালতকেই সচেষ্ট হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্র ও সমাজে যা কিছু ঘটছে তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব গণমাধ্যমের। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনিবার্যভাবে স্বীকৃত। আমরা একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কামনায় আছি, যেখানে গণমাধ্যম এবং আদালত তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আদালতকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। একইসঙ্গে আদালতকেও সেভাবে আচরণ করতে হবে। আইন দিয়ে সবসময় আদালতের মর্যাদা রক্ষা করা যায় না। আদালতের ভাবমূর্তি রক্ষায় আদালতকেই সচেষ্ট হতে হবে। মানুষ যদি একবার আদালতের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে তাহলে সবাইকে বিপদে পড়তে হবে। মানুষ যদি মনে করে সে আদালতে ন্যায়বিচার পাবে না, তখন সে নিজের হাতে আইন তুলে নেয়। 
আদালত অবমাননার আইন সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৯২৬ সালের আদালত অবমাননার আইন এখন অকার্যকর। আদালত অবমাননার আইন ভয় দেখানোর জন্য নয়। ভয় দেখিয়ে আদালতের মর্যাদা রক্ষা করা যাবে না। বিচারকদের মনে রাখতে হবে, আদালতের ওপর জনগণ আস্থা হারালে দেশে তখন গণতন্ত্র থাকবে না। যে যুগে বলা হতো, ‘ট্রুথ ইজ নো ডিফেন্স’। সেই যুগ শেষ হয়ে গেছে। আমরা এখন একটি আধুনিক সভ্য যুগে বসবাস করি। আদালতকে জনগণের মধ্যে এ আস্থা সৃষ্টি করতে হবে, যেখানে জনগণ মনে করবে আমরা অন্তত উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পাব। 
পঞ্চম সংশোধনী বাতিল সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে, সামরিক ফরমান দিয়ে সংবিধানের কোনো কিছু করা যাবে না। কিন্তু একটি সত্য কেউ বলছেন না, সামরিক ফরমানের মাধ্যমেই পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছিল। রক্ষা পেয়েছিল বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। সেদিনের সেই সামরিক ফরমান না হলে বাংলাদেশে এখন একদলীয় শাসনব্যবস্থাই চলত। 
বিশিষ্ট সাংবাদিক আতাউস সামাদ আদালত অবমাননার আইন সম্পর্কে বলেন, ১৯২৬ সালের আদালত অবমাননার আইন ১৯৭৪ ও ২০০৬ সালে সংশোধন করা হয়েছে। তবে সংশোধনের পর এ আইনটি ঠিক কি অবস্থায় আছে তা জানা যাচ্ছে না। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ল’ রিপোর্ট এবং কোর্ট রিপোর্টেও এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান ঠিক কি কারণে সাজাভোগ করলেন, এখনও তা জানা যায়নি। যে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করেছে তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এখানে প্রশ্ন জাগছে, আদালত কী তাহলে অসত্যকে প্রশ্রয় দিচ্ছে? আর আদালত যদি অসত্যকে প্রশ্রয় দেয় তাহলে তার মর্যাদা দেব কেন?
তিনি বিগত জরুরি সরকারের আমলে আদালতের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, মানুষ কান্নাকাটি করেও তখন উচ্চ আদালতে জামিন পায়নি। এখন সেসব মামলাই উচ্চ আদালতের মাধ্যমে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয় জনগণের মনে প্রশ্ন সৃষ্টি করছে। সাংবাদিকদের এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আতাউস সামাদ বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এখন খর্ব হচ্ছে। সাংবাদিকরা এখন টিকে থাকার অবস্থায় নেই। সাংবাদিক সমাজ আজ বিভক্ত। ন্যূনতম ঐক্য নেই তাদের মধ্যে। এ পরিস্থিতিতে আপনাদের একজন রফিক-উল হক আর রক্ষা করতে পারবেন না। সাংবাদিকরা যদি সাংবাদিকতা করতেন তাহলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো। তিনি বলেন, জনগণের কাছে কতটা মর্যাদা ও আস্থা আছে তার ওপরই নির্ভর করে আদালত ও গণমাধ্যমের মর্যাদা এবং স্বাধীনতা। 
ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন আন্দোলন-সংগ্রামের বিবরণ তুলে ধরে বলেন, ১০ বছর কারাগারে আর ১০ বছর পালিয়ে থেকেও আন্দোলনের পথ থেকে সরে যাইনি। এ সংগ্রাম ছিল জনগণের মুক্তির সংগ্রাম। বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম, মানবাধিকারসহ সভ্য সমাজের জন্য ইতিবাচক কিছু উপহার দেয়ার সংগ্রাম। তিনি বলেন, এখন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আমরা আছি। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নার্ভাস হলে চলবে না। সাহসের সঙ্গে টিকে থাকার লড়াই করতে হবে। লড়াইয়ের বিকল্প নেই উল্লেখ করে ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন বলেন, যতই ষড়যন্ত্র হোক, এ থেকে মুক্তিরও পথ আছে। এ পথ খুঁজে বের করাই হচ্ছে সৃজনশীল নেতৃত্বের কাজ। 
অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ বলেন, আদালতের মর্যাদা বা আদালতে কি হচ্ছে তা নিয়ে যে আলোচনা চলছে অতীতে আমার জীবনে তা দেখিনি। এমনকি স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের আমলেও নয়। অতীতে শ্রদ্ধামিশ্রিত ভক্তি দিয়ে জনগণ আদালতকে বিবেচনা করত। আমাদের দেশে কি সেটা এখন আছে? অতীতের সেসব সাহসী বিচারপতির মতো বিচারপতি এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। উচ্চ আদালতের কাছে আমাদের জনগণের আকাঙ্ক্ষা এখন পূরণ হয় না। এখনও দেশে অনেক কালো আইন রয়ে গেছে। আর কালো আইন বিদ্যমান থাকলে মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে কীভাবে? 
এখন প্রতিপক্ষকে নিপীড়ন করার জন্য আইন ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশে সৃষ্টি করা হয়েছে একটি ভীতির পরিবেশ। তিনি বলেন, আদালত এখন বলছে সামরিক স্বৈরশাসক চলবে না। তবে এর পাশাপাশি জনগণের প্রশ্ন, যে বেসামরিক স্বৈরশাসন কি দেশে চলতে পারে? এ ব্যাপারে পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের রায়ে কিছুই উল্লেখ নেই। বিচারপতি নিয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন, যেভাবে বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে তা কাম্য নয়। সবকিছু আজ বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এ দু’দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। থার্ড ডিভিশনপ্রাপ্তরাও নাকি বিচারপতি হন এটা কীভাবে সম্ভব? আর এমনটা হলে বিচারপতিদের প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা দিন দিন কমবেই। নীতিবান এবং যোগ্য ব্যক্তিদেরই বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া উচিত। 
মূল প্রবন্ধে সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ বলেন, যে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত সেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করে থাকে আদালত। বাংলাদেশের আদালত বিশেষ করে উচ্চ আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা খুবই কম। আদালতে কি হচ্ছে তার সামান্য অংশই জনগণ জানতে পারে মিডিয়ার কল্যাণে। কিছুদিন আগে একজন বিদায়ী প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, উচ্চ আদালতে প্রলয় ঘটে গেছে। তবে ঠিক কী প্রলয় ঘটেছে তা তিনি বলেননি। এ পরিস্থিতিতে জনগণ বিভ্রান্তিতে পড়ে। যেখানে অ্যাটর্নি জেনারেল বিদায়ী প্রধান বিচারপতিকে ধমকের সুরে কথা বলেন এবং তার বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন, সেখানে আদালতের প্রতি জনগণের আস্থা ও শ্রদ্ধায় ফাটল ধরাটাই স্বাভাবিক। এসব বিষয়কে আদালতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।
ড. ফয়জুল হাকিম বলেন, আদালতের মর্যাদার কথা যখন আসছে তখন আদালতের মর্যাদা প্রশ্নের সম্মুখীন। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা উঠছে, তখন গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও প্রশ্নের সম্মুখীন। আদালত রাষ্ট্রের একটি অঙ্গ। এ অঙ্গ কি জনগণের কাছে জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে। এ প্রশ্নটি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান বলেন, আদালতের রায়ের পর আমি স্বেচ্ছায় কারাগারে গিয়েছি। কিন্তু আমি আজও জানি না, কোন অপরাধে আমাকে কারাভোগ করতে হলো। আমি বলতে পারি, আমার রিপোর্টের উদ্দেশ্য ছিল আদালতের মর্যাদা বৃদ্ধি ও সমুন্বত রাখা। প্রতিটি ঘটনা ছিল বাস্তব। যা ঘটেছে তার বিবরণ দিয়েই কেবল রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আদালতের রায়ে যারা কারাগারে যাচ্ছেন, সেখানেও তাদের মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার নাগরিক হয়েও সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে তাকে রাখা হয়েছে।
এনার্জি সল্যুশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ফরিদ উদ্দীন আহমেদ বলেন, সম্প্রতি আদালতের বেশকটি রায় জনগণের মনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। বিশেষ করে দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কারাদণ্ড দেয়ার রায়ের বিষয়ে জনগণের পক্ষ থেকে সমালোচনা চলছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আদালতের মর্যাদার রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ পেশায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।
 
 
  •  
Terms & Conditions © Copy right by Awami Brutality 2010