Home Videos Photos News & media Blogs Contact    
News and Articals

'সত্য বললে জেল, মিথ্যা বললে বহাল তবিয়তে'

Edit Date:10/1/2010 12:00:00 AM

 

'সত্য বললে জেল, মিথ্যা বললে বহাল তবিয়তে'

 
Fri, Oct 1st, 2010 8:46 pm BdST
 
ঢাকা, অক্টোবর ০১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দেশের চলমান পরিস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে ব্যারিস্টার রফিক উল হক বললেন, এখন সত্য বললে জেলে যেতে হবে, আর মিথ্যা বললে বহাল তবিয়তে থাকা যাবে। 

শুক্রবার 'আদালতের মর্যাদা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে সংবাদপত্রে আদালত অবমাননার প্রসঙ্গ ধরেই সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ মন্তব্য করেন। 

রফিক উল হক বলেন, "আদালতের মান এত ঠুনকো হলে তা পদে পদে অবমাননা হবে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ চলতে পারবে না।" 

চেম্বার জজ আদালত নিয়ে নতুন প্রধান বিচারপতির একদিন আগে করা বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, "এ বিষয়টি প্রকাশ করায় আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের জেল ও জরিমানা হয়েছে।" 

শপথ নেওয়ার পর প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বৃহস্পতিবার বলেন, "চেম্বার জজ আদালতের কাজই হচ্ছে স্থগিতাদেশ দেওয়া। কারণ যিনি বা যে পক্ষ মামলায় জিতে যায়, চেম্বার আদালতে আসেন একটি পক্ষ।" 

'চেম্বার জজ আদালত মানেই স্টে'- এ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলো আমার দেশ। 

প্রধান বিচারপতির বক্তব্য নিয়ে রফিক উল হক বলেন, "আইনের শাসন, মানবাধিকার সম্পর্কে যা বলেছেন তা যদি তিনি মেনে চলেন এবং তার বিচারপতিরা মেনে চলেন, তাহলে দেশ সোনার বাংলাদেশে পরিণত হবে।" 

জাতীয় প্রেসক্লাবে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনার্জি সল্যুশন অব বাংলাদেশ (ইএসবি)' আয়োজিত ওই গোলটেবিলে সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন জন বক্তব্য রাখেন। কয়েকজন বক্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সমালোচনাও করেন। 

ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন বলেন, "সকলে যদি জেলে থাকে, তখন আর জেল থাকবে না। বর্তমানে রাজনীতির যে অবস্থা চলছে তার বিহিত করতেই হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।" 

বিচার বিভাগের ওপর যেন জনগণের আস্থা নষ্ট না হয়, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। 

তিনি বলেন, "আদালত অবমাননার আইন দিয়ে আদালত তার মর্যাদা রক্ষা করতে পারেব না যতক্ষণ পর্যন্ত আদালত নিজের মর্যাদা রক্ষা করতে না পারে। ১৯২৬ সালের আদালত অবমাননা আইন যুযোপযোগী করতে হবে।" 

বিদায়ী প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের সমালোচনা করে সাংবাদিক আতাউস সামাদ বলেন, "সে (অ্যাটর্নি জেনারেল) যদি আমার আত্মীয় হতো, তাহলে তাকে আমি বেয়াদব বলতাম।" 

হাইকোর্ট বিভাগে দুই বিচারপতিকে শপথ না পড়ানোর জন্য বিদায়ী প্রধান বিচারপতিকে 'সংবিধান লঙ্ঘনকারী' বলেছিলেন মাহবুবে আলম। 

অ্যাটর্নি জেনারেলের সমালোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহও। তিনি আরো অভিযোগ করেন, আদালত অবমাননার বিষয়ে সনাতন আইন ধরে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। 

আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ডিত সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান বলেন, "প্রতিবেদনের কোন স্থানে ভুল ছিলো, তা না জেনেই কারাভোগ করলাম।" 

রাজনীতিক ফয়জুল হাকিম বলেন, বতর্মানে ভূমিদস্যুদের অধীনে পত্রিকা চলছে বলেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকে মূল প্রবন্ধ পড়ে শোনান সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ। 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএইচএ/এমআই/২০৪০ ঘ.

Terms & Conditions © Copy right by Awami Brutality 2010